মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

ধূমপানের বিপদ এবং ফুসফুসের ক্যান্সার।

ফুসফুসের ক্যান্সার একটি বিশেষ ধরণের ক্যান্সার মাত্র। পৃথিবীর সকল ধূমপান বন্ধ করে দিলেই যে ফুসফুসের ক্যনাসার বিলুপ্ত হবে এমন নয়। ২০০৫ ... thumbnail 1 summary

ফুসফুসের ক্যান্সার একটি বিশেষ ধরণের ক্যান্সার মাত্র। পৃথিবীর সকল ধূমপান বন্ধ করে দিলেই যে ফুসফুসের ক্যনাসার বিলুপ্ত হবে এমন নয়।
২০০৫ সালের ঘটনা। জুলিয়ার শরীরটা মোটেই ভালো যাচ্ছিল না।গত ক’মাস ধরেই তিনি শরীরে এক ধরণের ব্যথা অনুভব করছিলেন। মাঝে মাঝে শ্বাস রুদ্ধ হয়ে যাওয়ার মত অবস্থাও হয়। দেখা করলেন চিকিৎসকের সঙ্গে। পরীক্ষার দেখা জুলিয়ার ডান বুকে পানি জমেছে। পানি অপসারণ করার পর ধরা পড়ল তার বুকে ৩.৫ সেন্টিমিটার আয়তনের একটি টিউমার হয়েছে।
এটি ছিল মূলত ফুসফুসের ক্যান্সার। ডাক্তারী পরিভাষায় একে বলা হয় adenocarcinoma । অথচ জুলিয়া জীবনে একটিও সিগারেট খাননি।
তার ডান ফুসফুসের টিউমার ছড়িয়ে পড়ে তার বুক, কাধের হাড় এবং লসিকা গ্রন্থিতে (Lymph node)। জুলিয়া বলেন, ‘জীবনে কখনো সিগারেট খায়নি। আমার স্বাস্থ্যেও কোনো সমস্যা ছিল না। ম্যামোগ্রাম, পাপ টেস্ট ইত্যাদি সাধারণ টেস্ট করিয়েছি। ভাবিনি এমনটা ঘটবে। আমি মর্মাহত। ৫৬ বছর বয়সী জুলিয়া বাস করেন ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোতে । তিনি ২৫,০০০ অধূমপায়ী রোগীদের একজন। মোটামোটি এই সংখ্যক অধূমপায়ী রোগীই যুক্তরাষ্ট্রে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। ক্যালিফোর্নিয়ার  স্ট্যানফোর্ড  কম্প্রিহেনসিভ ক্যান্সার সেন্টার-এর গবেষক হিদার ওয়েকলি বলেন, ‘ধূমপায়ীদের মধ্যে সকলেই যে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, এমন নয়। আবার কখনো ধূমপান করেননি এমন লোকেরাও এ রোগের শিকার হন  । এটা হচ্ছে আসলে রেকর্ডের বা কয়েনের উলটো পিঠের ন্যায়।
প্রশ্ন হচ্ছেঃ  এরা ফুসফুসের ক্যান্সার আক্রান্ত হন কেন? ২০০৬ সালে ফুসফুসের ক্যান্সারে  মারা গেলেন খ্যাতনামা অভিনেত্রী ও গায়িকা ডানা রিভ। ৪৪ বছর বয়সী এই মহিলা কখনোই ধূমপান করেননি। বিষয়টা জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যনীতি নির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। ইদানিং বিভিন্ন সাময়িকীতে এ বিষয়ে নিবন্ধ প্রকাশিত হচ্ছে। নিদানিক ট্রায়ালও হচ্ছে। নিদানিক ট্রায়ালের প্রধান উদ্যোক্তা ডাঃ ওয়েকলি গবেষকদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন ধূমপায়ী ও অধূমপায়ীদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সারের পার্থক্য নির্ণয় করতে পারলে উভয় ক্ষেত্রেই আরো উন্নততর চিকিৎসা প্রধান করা সম্ভব হবে।
পার্থক্যটা কোথায়ঃ অধুমপায়ীরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই adenocarcinoma ধাঁচের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। অন্যান্য ফুসফুস ক্যান্সারের তুলনায় এ ধাঁচের ক্যান্সারের নিরাময় যোগ্যতা অধিক বলে মনে করেন গবেষকরা। ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে কোষ কার্সিনোমা ঘটে থাকে যার উৎপত্তিস্থল সাধারণত ফুসফুসের বায়ুপথের চ্যাপ্টা, পালতা কোষ। এডেনোকার্সিনোমা এবং শল্কী কোষ কার্সিনোমা – উভয় ধরণের ফুসফুস ক্যান্সারই বেড়ে উঠে ধীরে ধীরে এবং এর উভয়টাই small cell ফুসফুসের ক্যান্সারের তুলনায় ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করে। বিশেষজ্ঞরা অনেকেই বলে থাকেন যে, অধূমপায়ীদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সার বাড়ছে। তবে এটা আসলেই বাড়ছে, তা অবশ্য নিশ্চিত করতে পারেননি কেউ। পিটসবারগ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের গবেষক জিল সিগফ্রিড বলেন যে, উপাত্ত সংগ্রহে দুর্বলতার কারনে ফুসফুসের ক্যান্সার বিষয়ে সঠিক হিসাব রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘অতীতে চিকিৎসকরা ধারণা করতেন যে, সবাই ধূমপায়ী।’
ধূমপান মস্তিক উজ্জীবিত করে নাঃ ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এমনকি ধূমপানের ফলে ফুসফুসের ক্যান্সার, হার্টের রক্তনালী সরু হয়ে যাওয়া, ব্রংকাইটিস সহ গলার নানা সমস্যা হতে পারে। যারা ধূমপান করেন তাদের প্রায় সকলেই একথা জানেন। এমনকি প্রতিটি সিগারেট ও বিড়ির প্যাকেট এ সতর্কবাণী লেখা থাকে। তারপরেও অনেকে ধূমপান করেন। অনেকে আবার কৌতুহল বশতঃ ধূমপান করেন। কেউ কেউ টেনশন কমাতে ধূমপান করেন। আবার অনেকের ধারণা ধূমপান করলে মস্তিক উজ্জীবিত হয়, চিন্তাশক্তি বাড়ে। আসলে এ পর্যন্ত বিজ্ঞানিরা ধূমপানের কোন হিতকর দিক বা ভালো দিক খুঁজে পাননি। মস্তক উজ্জীবিত করার কোন প্রমাণও পাননি বিজ্ঞানীরা। মূলতঃ সিগারেটের মধ্যে থাকা অসংখ্য কেমিক্যাল শরীরে প্রবেশ করে অনেকের মধ্যে সাময়িক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। কিন্তু কখনই মস্তিক উজ্জীবিত হতে সহায়তা করেনা। ধূমপান চিন্তা শক্তিকেও প্রখর করেনা। এসব নিছকই ভুল ধারনা। তাই ধূমপান ত্যাগ করুণ, সুস্থ থাকুন।
হৃৎপিণ্ড কিডনি ও লিভার ফাংশন টেস্টঃ শরীরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ আছে, যা নিয়ে আপনার সব সময় সচেতনা থাকা উচিৎ। এ সকল অঙ্গের মধ্যে হৃৎপিণ্ড, কিডনি ও লিভার অন্যতম। আপনার সচেতনতা  আর সামান্য কিছু প্রতিরোধ ব্যবস্থা অনেক সময় শারীরিক জটিলতা থেকে আপনাকে রক্ষা করতে পারে। মনে রাখবেন, সময়ের এক ফোঁড় আর অসময়ের দশ ফোঁড় । শরীর রোগ বাসা বাঁধলে যার চিকিৎসায় আপনাকে অনেক টাকা খরচের পাশাপাশি অনেক ভুগতে হবে, শুধু সচেতনতা আর নিয়মিত চেক-আপের মাধ্যমে আপনি সে রোগ থেকে বাচতে পারবেন সহজে। তাই আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে হৃৎপিণ্ড , কিডনি আর লিভারের অবস্থা জেনে নিন নিয়মিত। শরীরের অতীব গুরুত্বপূর্ণ এ তিনটি অঙ্গের অবস্থা সম্পর্কে আপনার সচেতনতার জন্য কী কী ধরণের পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হবে-তাএখানে উল্লেখ করা করা হলঃ
কার্ডিয়াক প্রোফাইলঃ কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি), ব্লাড সুগার (ফাস্টিং ও পিপি), সিরাম লিপিড প্রোফাইল (ফাস্টিং), লিভার ফাংশন টেস্ট (সিরাম বিলিরোবিন, এসজিপিটি, এলকালাইন ফসফেটস , টোটাল প্রোটিন, এ;জি রেসিও), কিডনি ফাংশন টেস্ট (ব্লাড উইরিয়া, সিরাম ক্রিয়েটিনিন, সিরাম ইউরিক, এসিড, সিরাম ইলেকট্রোলাইটেস, ইউরিন আর/এম/ই) ব্লাড গ্রুপিং এবং আরএইচ ফ্যাক্টর, ইসিজি, এক্স-রে চেস্ট পি/এ ভিউ, এক্সারসাইজ টলারেন্স টেস্ট (ইটিটি) বা ইকো ডপলার স্টাডি।
কিডনি ফাংশন টেস্টঃ ব্লাড ইউরিয়া, সিরাম ক্রিয়েটিনিন, সিরাম ইউরিক এসিড, সিরাম ইলেকট্রোলাইটিস, ইউরিন আর/এম/ই।
লিভার ফাংশন টেস্টঃ সিরাম বিলিরুবিন, এসজিপিটি, এলকালাইন ফসফেটস, টোটাল প্রোটিন, এজি রেসিও।

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন